ত্রিভূবন বিমানবন্দরে ১০০ বার অবতরণ করেছিলেন আবিদ সুলতান

ফাইল ছবি।

নিউজ ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান কাঠমান্ডের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ১০০ বার নিরাপদে অবতরণ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার বারিধারায় প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরটি বিপজ্জনক তবে আমাদের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান বেশ অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি এই বিমানবন্দরেই ১০০ বার নিরাপদে অবতরণ করেছিলেন। তিনি আরো জানান, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সেই ক্যাপ্টেন আবিদের এক হাজার ৭০০ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিলো। আর সব মিলিয়ে তিনি আকাশে বিমান উড়িয়েছেন পাঁচ হাজার ঘণ্টা। কাঠমান্ডুতে শতাধিক বার ল্যান্ডিং করার অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই তিনি অবশ্যই একজন দক্ষ পাইলট ছিলেন।

নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) ভুল সংকেতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে-সেটি আগের দিনই দাবি করেছেন ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ। আজ কামরুল ইসলাম সেই কথা আবারো জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লাস্ট মিনিট যে এটিসি ও পাইলটের মধ্যে যে কথোপকথন সেটা ব্ল্যাক বক্সে সংরক্ষিত থাকে। সেই ব্ল্যাক বক্স এরই মধ্যে উদ্ধার হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস কনভারসেশন মিলিয়ে পজেটিভ কিছু পেয়ে যাবো।

এর আগের দিন ক্যাপ্টেন আবিদ ও কো-পাইলট পৃথুলা রশীদের পরিচালনায় ফ্লাইটটি অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। মোট ৬৭ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু ছিলো এতে। এদের মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার দিনেই পৃথুলা নিহত হন। তবে ক্যাপ্টেন আবিদ বেঁচে গিয়েছিলেন। একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার মারা যান তিনি।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ওই উড়োজাহাজটিতে মোট ৭১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু। যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি এবং একজন চীন ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.