স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান

শরীয়তপুর সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
প্রমত্তা পদ্মার বুকে স্বপ্নের সেতু আরো দৃশ্যমান হয়েছে। বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ‘৭সি’নম্বরের তৃতীয় স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আজ রোববার (১১ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ৩ হাজার ২শ টন ওজনের স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়ে বেলা ১১টার দিকে শেষ হয়। এটি বসানোর দ্বারা পদ্মা সেতুর ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এর আগে দুটি স্প্যানে ৩০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। এরআগে গত বছরের অক্টোবরে প্রথম এবং গত ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যান বসানো হয়। এভাবে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুতে ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান।

দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, তৃতীয় স্প্যান বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

জানা গেছে, লৌহজংয়ের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টক ইয়ার্ড থেকে গত শুক্রবার দুপুরে ৩২০০ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে রওনা হয় ৩৬০০ টন ওজনের ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেনটি। সন্ধ্যার কিছু আগে সেটি সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৫ নম্বর খুঁটির কাছে গিয়ে নোঙর করে। সেখান থেকে গতকাল শনিবার (১০ মার্চ) সকালে স্প্যানটি ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির কাছে নেওয়া হয়। পরে রোববার সকালে স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়ে বেলা ১১টার দিকে শেষ হয়।

এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। এর তিন মাস পর গত ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটির ওপর দ্বিতীয় স্প্যান বসানো হয়। আর দ্বিতীয় স্প্যান স্থাপনের ৪০ দিনের মাথায় তৃতীয় স্প্যানটি ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হলো। তার আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সেতুতে ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এরমধ্যে ৪০টি থাকবে পানিতে আর দু’টি থাকবে ডাঙায়।

এদিকে স্বপ্নের সেতু পদ্মার বুকে মাথা গজিয়ে উঠতে দেখে আনন্দের সীমা নেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। অনেকে স্প্যান বসানো দেখতে ভিড় করেছেন জাজিরা পয়েন্টে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি পদ্মা সেতু। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সেতু বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। তবে দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের ধোঁয়া তুলে এই প্রকল্পে অর্থায়ন না করার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি দাতা সংস্থা। পরে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১২ সালে শুরু হয় সেতুর কাজ। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটিতে কয়েক দফা ব্যয় বেড়েছে। এখন প্রকল্প ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এই সেতুটি চালু হলে ভাগ্যের দুয়ার খুলে যাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের। জাতীয় অর্থনীতিতে এই সেতুটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.