অটোরিকশার মেয়াদ আর না বাড়ানোর পরামর্শ বুয়েটের

ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
রাজধানীর ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে চলাচলকারী ১৫ বছরের পুরোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ আর না বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এই মতামত জানিয়ে আজ মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) চিঠি পাঠিয়েছে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ। এদিকে এই চিঠিটি পাওয়ার পরপরই তা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বুয়েট আজ আমাদের চিঠি পাঠিয়েছে। তারা বলেছে, সিএনজি অটোরিকশাগুলোর বর্তমান অবস্থা থেকে আর মেয়াদ বাড়ানো সমীচীন হবে না। উনারা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। বলেছেন যে ২০০২ মডেলের সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ আর বৃদ্ধি না করার জন্য। সেগুলোর মেয়াদ তো গত ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো। তিন মাস বাড়ানোর পর এখন ৩১ মার্চ শেষ সময়। আর ২০০৩ সালের অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরের পরে আর না বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন তারা।

ঢাকা এবং চট্টগ্রামে চলাচলকারী অটোরিকশার ইঞ্জিন এবং গ্যাস সিলিন্ডার প্রতিস্থাপন করে মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে আবেদন পাঠায় ঢাকা মহানগর অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ। ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম বৈঠকে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে অটোরিকশার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বুয়েটের মতামত নিয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২ নভেম্বর বিআরটিএতে চিঠি পাঠায় সড়ক বিভাগ। বিআরটিএ ১৩ নভেম্বর বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে তাদের জানতে চায়।

ঢাকায় ১৩ হাজার ৬৫২ অটোরিকশা চলছে। এর মধ্যে ২০০২ সালে নিবন্ধন দেয়া পাঁচ হাজার ৫৬১টির ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। ২০০৩ সালে নিবন্ধিত অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত ১৩ হাজার অটোরিকশার মধ্যে সাত হাজার ৪৫৯টির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। বাকিগুলোর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই মাসের ৩১ তারিখ এসব অটোরিকশার মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়িয়েছিলো সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়। সে হিসেবে ৩১ মার্চের পর এসব অটোরিকশার মেয়াদ আর থাকছে না।

২০০২ সালে সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ২০০৩ সালে আরো সাড়ে সাত হাজার অটোরিকশার নিবন্ধন দেয়া হয়। এছাড়া মিশুকের প্রতিস্থাপন হিসেবে আরো ৬৫২টি অটোরিকশার নিবন্ধন দেয়া হয়। অটোরিকশাগুলোর বয়সসীমা ধরা হয় ৯ বছর। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সাড়ে সাত হাজার অটোরিকশার বয়স শেষ হয়। ২০১০ সালে অটোরিকশার বয়সসীমা বাড়ানোর আন্দোলন শুরু করে মালিক সমিতি। সরকার দুই দফায় এক বছর করে এসব অটোরিকশার বয়স দুই বছর বাড়ায়। এরপর ২০১৩ সালে বাড়ানো হয় চার বছর।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*