স্বরূপে মোস্তাফিজ, জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৮২

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান। স্বপ্নের মতো অভিষেকের পর ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন দলের বাইরে। অস্ত্রোপচার শেষে দলে ফিরলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না মোস্তাফিজ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে পুরনো মোস্তাফিজকে দেখার অপেক্ষায় ছিলো দেশবাসী। মাঝের দুই সিরিজে সবাইকে হতাশ করলেও অবশেষে ত্রিদেশীয় সিরিজে দেখা যাচ্ছে মোস্তাফিজের সেই ঝলক। আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দেখালেন নিজের সেই যাদু। তুলে নিলেন ৪ উইকেট। আর তার এই দুর্দান্ত বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে ১৮১ রানে আটকে ফেলেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে ১৮২ রান।

ডাবলিনের ম্যালাহাইডে আজ শুক্রবার আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ওপেনার এড জয়েস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন নিয়াল ও’ব্রাইন। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান চারটি, মাশরাফি বিন মর্তুজা দুইটি, সানজামুল ইসলাম দুইটি, সাকিব আল হাসান একটি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত একটি করে উইকেট নেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে আজ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মর্তুজা কেন প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন তা বোঝা গেলো ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। স্বাগতিকদের দলীয় শূন্য রানে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে পল স্টার্লিংকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ‘কাটার বয়’ মোস্তাফিজুর রহমান।

ইনিংসের অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে (বোলার ছিলেন মাশরাফি) শর্ট এক্সট্রা কাভারে ওঠা পোর্টারফিল্ডের সহজ ক্যাচ ড্রপ করেছিলেন মোসাদ্দেক। তবে সেই ক্যাচ ড্রপের লোকসান পুষিয়ে দেন এ তরুণ অলরাউন্ডার।

পরের ওভারটি মোসাদ্দেকের হাতেই তুলে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানই শুধু দেননি, ক্যাচ মিসও পুষিয়ে দিলেন বোলার মোসাদ্দেক। সেই পোর্টারফিল্ডকেই কট অ্যান্ড বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন তিনি। বেশ ভালোই খেলছিলেন পোর্টারফিল্ড। ২৫ বলে ২২ রান করেন তিনি। তাকে আউট করে দলকে স্বস্তি এনে দেন অনিয়মিত বোলার মোসাদ্দেক।

আয়ারল্যান্ডের দলীয় ৬১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটিয়েছিলো বাংলাদেশ। উইকেটটি নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের ১৫তম ওভারে অ্যান্ডি বলবার্নিকে বোল্ড করেন তিনি। ২৪ বল খেলে ১২ রান করেন বলবার্নি।

এরপর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এড জয়েস ও নিয়াল ও’ব্রাইন। দুইজনে মিলে গড়েছিলেন ৫৫ রানের পার্টনারশীপ। তাদের এই জুটি ভেঙে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ২৮তম ওভারে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ বানিয়ে নিয়াল ও’ব্রাইনকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডের দলীয় রান যখন ১২৬ তখন তাদের পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে। আঘাত হানেন আজ ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা স্পিনার সানজামুল ইসলাম। ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারের বল করতে এসে ওপেনার এড জয়েসকে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ পরই আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। দারুণ একটি ক্যাচ নিয়ে কেভিন ও’ব্রাইনকে সাজঘরের পথ দেখান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ইনিংসের ৩৪তম ওভারে ইনিংসে নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়েন গ্যারি উইলসন।

এরপর ৩৫ রানের পার্টনারশীপ গড়েন জর্জ ডকরেল ও ব্যারি ম্যাকার্থি। ইনিংসের ৪৪তম ওভারে ব্যারি ম্যাকার্থিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন সানজামুল ইসলাম। ৪৭তম ওভারে টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা জর্জ ডকরেল ও পিটার চেজকে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন।

বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের একাদশে একটি করে পরিবর্তন এসেছে। মেহেদী হাসানকে বাদ দিয়ে সানজামুল ইসলামকে অভিষেক ক্যাপ পরিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এড জয়সেকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন আইরিশ তারকা সিমি সিং।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩১.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ১৫১ রান তোলে। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই দলকেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়।ফের সানজামুলের আঘাত, অষ্টম উইকেটের পতন

নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৫১ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করে নিউজিল্যান্ড। বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশের। মাশরাফিদের করা ২৫৭ রান ১৫ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় টম ল্যাথামের দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড ইনিংস: ১৮১ (৪৬.৩ ওভার)
(এড জয়েস ৪৬, পল স্টার্লিং ০, উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ২২, অ্যান্ডি বলবার্নি ১২, নিয়াল ও’ব্রাইন ৩০, কেভিন ও’ব্রাইন ১০, গ্যারি উইলসন ৬, জর্জ ডকরেল ২৫, ব্যারি ম্যাকার্থি ১২, টিম মুরতাঘ ৫*, পিটার চেজ ০; রুবেল হোসেন ০/৪১, মোস্তাফিজুর রহমান ৪/২৩, মাশরাফি বিন মুর্তজা ২/১৮, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১/২১, সাকিব আল হাসান ১/৩৮, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/১৩, সানজামুল ইসলাম ২/২২)।

সম্পাদনা : সূর্য দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page