সমঝোতার পথ বন্ধ করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছি সমোঝতা করতে, কিন্তু বিএনপিই সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীর প্রধান মিলননায়তনে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় ঘাতকের হাত থেকে বেঁচে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারতে দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবনযাপন শেষে দেশের মাটিতে ফিরে আসেন। এই দিনটিকে আওয়ামী লীগ ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ দিবস হিসেবে পালন করে।

রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব সমঝোতার দরজা আপনারাই বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন পুত্রহারা মাকে (খালেদা জিয়া) শান্তনা জানাতে গিয়েছিলেন সেদিন তারা দরজা বন্ধ করেই তাদের সঙ্গে সমঝোতার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের পুরস্কৃত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিলো তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সমঝোতা হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া তাদের রাজনৈতিক অধিকার। কাউকে জোর করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ানোর কিছু নেই। আর নির্বাচন কমিশন গঠনকালে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব থেকে একজন এবং বিএনপির প্রস্তাব থেকে একজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রাষ্ট্রপ্রতি নিয়োগদান করেছে।

ইসিতে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালীন সরকার শুধুমাত্র সরকারের রুটিন মাফিক কাজ করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রযাত্রা শুরু করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের জন্য আগামীকাল শনিবার আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এর মাধ্যমে আমরা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বাত্মক অগ্রযাত্রা শুরু করবো।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর ছয় মাসের মধ্যে দলের প্রথম বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সভায় দলীয় নেতাদের হাতে নতুন ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র তুলে দেয়া হবে।

এ সভা থেকে আওয়ামী লীগের পুরান সাধারণ সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলীয় নতুন সদস্য অভিযান চলাকালে দলে যাতে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে সেদিকে প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি মো. ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাঈল হোসেন।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page