শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নায়ক রাজ্জাককে শেষ বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ ও কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক বাংলার মানুষের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিলেন সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি শাসন করে গেছেন রাজার মতো। এই নায়করাজ রাজ্জাককে এক নজর দেখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। প্রিয় নায়ককে দেখতে শহীদ মিনারে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও আসেন প্রিয় নায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে। ঢাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে অনেকেই এসেছেন প্রিয় নায়ককে এক নজর দেখার জন্য। সবাই হাতে ফুল দিয়ে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান নায়করাজ রাজ্জাককে।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজ্জাকের মরদেহ আনা হয় শহীদ মিনারে। দুপুরে মরদেহ আনা হবে এমন সংবাদ জানতে পেয়ে আগে থেকেই শহীদ মিনার এলাকা লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাদের প্রিয় নায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাতে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন শহীদ মিনার এলাকায়। বিএফডিসিতে জানাজা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ যখন শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশ করে, তখন মানুষ হুমড়ি খেয়ে দৌঁড় দেয় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের দিকে। মুহূর্তের মধ্যেই শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে মরদেহ রাখা হয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অস্থায়ী মঞ্চে। অস্থায়ী মঞ্চে রাজ্জাকের মরদেহের সঙ্গে ছিলেন তার দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাট, চিত্রনায়ক শাকিব খান, সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, গোলাম কুদ্দস প্রমুখ।

পৌনে ১টার দিকে রাজ্জাকের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ‍বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পুলিশ সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন। এতে করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান গেট পর্যন্ত ঠেকে যায়।

রাজ্জাকের কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি। তার চলে যাওয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। এ শূন্যস্থান কখনও পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের উত্তম কুমার।

প্রিয় নায়ককে বিদায় জানাতে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, নায়ক রাজ্জাককে আমি অনেক শ্রদ্ধা করতাম। উনি যে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবেন এটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুক। এই দোয়াই করি।রাজ্জাকের মরদেহ শহীদ মিনারে দুই ঘণ্টা রাখার কথা থাকলেও রাখা হয় পৌনে এক ঘণ্টার মতো। বেলা সোয়া ১টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। এর কারণ হিসেবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পী এবায়দুর রহমান বলেন, মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে স্টেজ ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় আমরা মরদেহ গুলশানে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন। দোয়াটাই বড়। তিনি যেন জান্নাতবাসী হোন।

এদিকে, নায়করাজ রাজ্জাককে চিরবিদায় ও শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মঞ্চের চারপাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরাও পেশাগত কাজে অনেক আগেই এখানে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বিকালে গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় দাফন করা হবে বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি নায়ককে।

কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সম্পাদনা :সূর্য দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page