‘মেয়র আনিসুল হকের সত্য উপলব্ধি’ ও ‘ধন্যবাদ’

আশীষ কুমার দে, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। ফাইল ছবি

গতকাল ১৪ জুলাই, রোববার, ২০১৭ তারিখ এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মাননীয় মেয়র আনিসুল হক মশাবাহিত জটিল রোগ ‘চিকুনগুনিয়া’ (এক ধরনের জ্বর) সম্পর্কে বলতে গিয়ে একপর্যায়ে বলে ফেলেন, “চিকুনগুনিয়া মহামারী হোক আর যা-ই হোক, এর জন্য ডিএনসিসি দায়ী নয়। আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশা মারা কিংবা মশারী টানানো তাদের পক্ষে সম্ভব না”। তাঁর এ বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে তীর্যক মন্তব্য করতে থাকেন মেয়রের বিরুদ্ধে। তবে মেয়র আনিসুল হক আজ ১৫ জুলাই, শনিবার, ২০১৭ তারিখ ডিএনসিসির উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক র‌্যালির শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁর গতকালের বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যের জন্য কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা তার জন্য দু:খিত”।

আমি মনে করি, সমালোচনা শুরুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজের বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করায় মেয়রের মর্যাদা মোটেও ক্ষুন্ন হয়নি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমাদের দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে কোনো নেতা কিংবা বড় কর্মকর্তা কোনো ভুল বাক্য উচ্চারণ অথবা সমালোচনা-যোগ্য কোনো কাজ করলে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও সেই নেতা কিংবা কর্মকর্তা ভুল স্বীকার ও দু:খ প্রকাশ করেন না। উপরন্তু নেতাকে খুশী করার জন্য ছোট নেতারা অথবা আমলাকে খুশী করার জন্য ছোট আমলারা (সরকারি কর্মকর্তা) রণপ্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামেন। মনে হয়, যেকোনোভাবে প্রভুকে (নেতা বা বড় আমলা) রক্ষা করতে হবে, এতে তিনি খুশী হবেন। আর এ কাজটি করতে গিয়ে সমালোচনাকারীদের ওপর তীর্যক বাক্যবাণে ঝাঁপিয়ে পড়েন, অনেক ক্ষেত্রে মামলা, এমনকি সমালোচনাকারীদের ওপর দৈহিক হামলার ঘটনাও ঘটে। নেতাভক্ত ছোট নেতা ও কর্মীরা এবং প্রভুভক্ত ছোটো আমলারা সমালোচনামূলক নিবন্ধ, প্রতিবেদন ও সমালোচনাকারীদের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচারের জন্য গণমাধ্যমকে তুলাধুনো করতেও পিছপা হন না। কুরুচীপূর্ণ এই সংস্কৃতির কারণে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ধ্বংস হচ্ছে, ক্ষমতাবান আমলাতন্ত্রের দাপট অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান না হয়ে তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।

কিন্তু ডিএনসিসির মেয়র মহোদয় বোধ হয় এই কুরুচীপূর্ণ সংস্কৃতির বিপক্ষের লোক। তাঁর আজকের এই দু:খ প্রকাশের সুস্থ মানসিকতা ও সৎসাহস নগরবাসীকে সেই বার্তাই দিলো। এতে তাঁর মাথা নিচু হয়নি, বরং উঁচু হয়েছে, তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাবোধ বেড়েছে। সত্য উপলব্ধির জন্য মেয়র আনিসুল হককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত, জীবনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পন ও জনগণের ভোটে ঢাকা উত্তর সিটির নগরপিতার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর অনেক কর্মকান্ড জনপ্রশংসা কুড়িয়েছে। সাহস নিয়ে অনেক দুু:সাধ্য কাজও তিনি করেছেন। আমরা আশাবাদী যে, উত্তর সিটির অনেক ভালো কাজের প্রভাব ঢাকা দক্ষিণ সিটিসহ আশপাশের সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতেও পড়বে।

মামনীয় মেয়র আনিসুল হক
পরম করুণাময় স্রষ্টার কাছে আপনার দীর্ঘায়ূ ও সুস্থজীবন কামনা করি।
জয়বাংলা। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

আশীষ কুমার দে:প্রধান সম্পাদক, পিটিবিনিউজ.কম। 

 

 

 

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page