বয়স্ক-বিধবা ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের অভিযোগ

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

বাগেরহাটে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধি ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান কতৃক কমিশন আদায় নিয়ে বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমাজ সেবা কর্তৃপক্ষ, অগ্রণী ব্যাংক ও ইউপি চেয়াম্যানদের যোগসাজসে বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুর ও কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের দরিদ্র ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে এ কমিশন আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে রোববার সকাল থেকে ইউনিয়নের ভাতা ভোগীদের মাঝে ছয় মাসের ভাতার অর্থ প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হিসাবে ছয় মাসে জনপ্রতি তিন হাজার টাকা দেয়ার সময় কমিশন আদায় করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। আর এ কমিশনের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকেও দিতে হয় বলে জানান আদায়কারীরা। গোটাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান-এর নির্দেশে গ্রাম পুলিশ দিয়ে জনপ্রতি এ টাকা আদায়ের কথা জানাজানি হলে বোববার বিকালেই সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে গোটাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

গোটাপাড়া গ্রামের বাক প্রতিবন্ধি তুষার তার বড় ভাইকে নিয়ে ভাতা আনতে গেলে তার কাছ থেকে ২৫০ টাকা কেটে রাখে বলে জানান প্রতিবন্ধি তুষারের বড় ভাই তরুন কুমার দে।

ভাতশালা গ্রামের হাবীর সরদারের ছেলে বাক প্রতিবন্ধি সুমন সরদার (১৮)-এর কাছ ৩০০ টাকা আদায় করা হয়। এমনই অভিযোগ করেন গোটাপাড়া মুক্ষাইট গ্রামের আঃ রাজ্জাক, আলেয়া বেগম, রনজিৎ সোমসহ বেশ কয়েকজন ভাতা ভোগী।

দেপাড়া এলাকার হারুন শেখ ও পশ্চিমভাগ গ্রামের রমজান শেখ বলেন, ভাতা আনার জন্য গোটাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পরিষদের খরচ ও গ্রাম পুলিশ ট্যাক্স দাবি করে ৩০০ টাকা কর্তণের কথা বললে আমরা পরিষদ থেকে টাকা গ্রহণ করি নাই। কারণ ব্যাংক থেকে নিলে কোনো টাকা কর্তণ হয় না। আমরা বৃদ্ধ মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বসে ছিলাম।

ভাতা প্রদানকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী আবুল বাশার বলেন, ভাতা ভোগীদের বইয়ে সব টাকা লিপিবদ্ধ করে পরে চেয়ারম্যান ও গ্রামপুলিশ নগদ ২০০/৩০০ টাকা করে কেটে রাখার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে ধমক দেয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক তিনি তার দপ্তরের ফিল্ড সুপার ভাইজার সৈয়দ রওনাকুল ইসলামকে জানান। রওনাকুল ইসলাম তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে আসতে বলেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সদর উপজেলার দেপাড়া বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংক ম্যানেজার শংকর কুমার বলেন, চেয়ারম্যানদের অনুরোধে এ শাখা থেকে গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুর ও কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাতা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ভাতা প্রদানকালে ব্যাংকের কৃষ্ণ পদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। যেহেতু পরিষদে ভাতা প্রদানে জটিলতা হয়েছে তাই এখন থেকে ব্যাংকের বুথ হতে ভাতা প্রদান করা হবে।

সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী মোকাররম বলেন, সমাজসেবা অর্থ ছাড় করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ভাতাভোগীদের অর্থ দেয়া হয়।

গোটাপাড়া ইউনিয়নের অভিযোগ পেয়ে সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাজমুল হুদাসহ আমরা সরেজমিনে যাই এবং  প্রাথমিকবাবে অভিযোগের সত্যতা মেলে। তবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শমসের আলী সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার ইউনিয়ন পরিষদে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের পেয়ে আমরা সরেজমিনে যাই এবং  প্রাথমিকবাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহদয়ে নিকট হস্তান্তর করবো তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page