ব্রেক্সিট ঘণ্টা বাজবে ২৯ মার্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। আগামি ২৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ইইউকে জানিয়ে দেবেন, তার দেশ আর ২৮ দেশের এই পরিবারে থাকছে না। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠনের পর যুক্তরাজ্যই প্রথম দেশ, যারা এই জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে; এই প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট।

ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মে ইইউর বাকি ২৭ সদস্য দেশকে চিঠিতে আর্টিকেল ফিফটি নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানাবেন। ইইউতে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত টিম বারোউ ইউরোপিয়ান কাউন্সিলকে সোমবারই (২০ মার্চ) আর্টিকেল ফিফটি নিয়ে আলোচনা শুরুর চূড়ান্ত তারিখ জানিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান মের কার্যালয়ের মুখপাত্র।

প্রসঙ্গত, ৯ মাস আগে ঐতিহাসিক গণভোটে ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে রায় দেয় যুক্তরাজ্যবাসী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট ব্রেক্সিটের পক্ষে এবং ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট বিপক্ষে পড়ে। এ জের ধরে সে সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন, যিনি শুরু থেকেই ব্রেক্সিটের বিরোধীতা করে আসছিলেন।

ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন টেরেসা মে। দায়িত্বে আসার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী গণভোটের রায় অনুযায়ী লিসবন চুক্তির ‘আর্টিকেল ফিফটি’ প্রয়োগ করে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন। এরপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টও বহুল আলোচিত ‘ব্রেক্সিট বিল’ পাশ হলে যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে সামনে থেকে সব বাধাই অপসারিত হয়।

২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া লিসবন চুক্তি ইইউর অন্যতম সাংবিধানিক ভিত্তি। চুক্তির আর্টিকেল-ফিফটিতে জোট ছেড়ে যাওয়ার কেতা-কানুন সংক্ষেপে বলা রয়েছে। আর্টিকেল ফিফটি অনুযায়ী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জোট ছাড়ার ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পর বিচ্ছেদের দর কষাকষি শেষ করতে দুই বছর সময় পাওয়া যাবে। ওই সময়ে জোটের বাকি ২৭ দেশ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আলোচনায় বসবে। বিচ্ছেদের পর সম্পর্ক কীভাবে এগোবে সেই দর কষাকষির আলোচনা শুরু করবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের বাকি ২৭ দেশের সামনে তুলে ধরা হবে বিচ্ছেদের খসড়া চুক্তি। ওই চুক্তি কার্যকরের জন্য অন্তত ২০টি দেশের সম্মতি লাগবে, যারা ইইউর ৬৫ শতাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুসমর্থন প্রয়োজন হবে সেই বিচ্ছেদ চুক্তিতে।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page