বিচারকদের চাকরিবিধি: গেজেট প্রকাশে আরো এক সপ্তাহ সময়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে আরো এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ সোমবার (১৭ জুলাই) সকালে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে সময় আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গেজেট প্রকাশের জন্য একাধিকবার সময় দেন আপিল বিভাগ। সর্বশেষে ২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহের সময় দেন আপিল বিভাগ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, সব সময় মনে রাখবেন সরকার এবং প্রধান বিচারপতির মধ্যে ব্রিজ হল অ্যাটর্নি জেনারেল।’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল গেজেট প্রকাশে দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন।

গতকাল প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট চূড়ান্ত হবে।

এর আগেও গেজেট প্রকাশে কয়েক দফা সময় নেয় সরকার। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ১২ ডিসেম্বর তলবও করেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

প্রায় এক বছর ধরে নিম্ন আদালতে চাকরিবিধি-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। এর মধ্যে কয়েকবার সময় দেয়ার পরও সরকার গেজেট প্রকাশ না করায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট বলছেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। গেজেট প্রকাশ করতেই হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেন। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেন সর্বোচ্চ আদালত।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় চাওয়া হলেও সেই গেজেট আর প্রকাশ হয়নি।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page