বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতিতে শীতলক্ষ্যায় অবৈধ ইকোপার্ক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন।

উচ্চ আদালতের রায় অগ্রাহ্য করে রাজধানীর অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেষে নদীর জায়গায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমতিতে গড়ে ওঠা বিনোদনমূলক স্থাপনা ‘চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক’ অবিলম্বে উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ  আন্দোলন (বাপা)। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

এ সময় বক্তারা বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও নদী রক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান শাজাহান খানেরও কঠোর সমালোচনা করেন; যিনি গত ১৩ এপ্রিল চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক উদ্বোধন করেন। সে সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকও সেখানে ছিলেন।

১৩ এপ্রিল চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক উদ্বোধনের পর এভাবেই ক্যামেরাবন্দি হন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনার বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন। এ সময় সংগঠনের সহ-সভাপতি লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, সংগঠনের  নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক তারিক বাবু উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে  শীতলক্ষ্যার তীরে স্থাপিত এই ইকোপার্ক উচ্ছেদসহ নদী রক্ষায় ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, “শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের আশপাশের প্রায় সব নদী অবৈধভাবে দখল ও মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে।”

তিনি জানান, শীতলক্ষ্যার তীরে খানপুর বরফকল এলাকায় নদীর সীমানা প্রাচীরের কাছ থেকে ৩৩৭ নম্বর পিলারের পর প্রায় দুই একর জমি ভরাট করে ‘চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক’ নির্মাণ করা হয়েছে।

নদী দখল ঠেকাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাইকোর্টকে জানানোর দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ’র ওপর থাকার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান কীভাবে ওই পার্ক নির্মাণের অনুমতি  দিলো- সেই প্রশ্ন তোলেন মিহির বিশ্বাস।

নদী রক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ওই ফ্যান্টাসি পার্কের উদ্বোধন করেন জানিয়ে বাপার যুগ্ম সম্পাদক বলেন, “মন্ত্রী কি করে এই পার্ক উদ্বোধন করলেন- তা সচেতন জনগণ অবশ্যই জানার অধিকার রাখে।”

নদী ভরাট করে গড়ে তোলা ওই পার্ক উচ্ছেদ করে নদীর আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানান মিহির বিশ্বাস।

নদীর ওপর গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন, শীতলক্ষ্যা নদী দূষণ রোধ ও দখলমুক্ত করা এবং অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

এছাড়া ওয়াসার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ; ঢাকা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, সাভার ও জয়দেবপুরের পৌর বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ; সকল শিল্প কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট সংযোজনে মালিকদের বাধ্য করা, শীতলক্ষ্যার সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, উচ্ছেদকৃত নদীর পাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং নারায়ণগঞ্জের সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দাবিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবুল মকসুদ  বলেন, “ঢাকার চারপাশের চারটি নদী সংঘাতিকভাবে আক্রমণের শিকার। সরকারের প্রভাবশালীরা নদী দখল করছে, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

নদী মরে গেলে যে তীর ও আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যবস্থা থাকবে না- সে বিষয়ে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বহীনতার জন্য নদীগুলো ‍দূষিত হয়ে যাচ্ছে।”

 

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page