বাগেরহাটে অজ্ঞাত রোগে শিশু আক্রান্ত, অর্থের অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে দরিদ্র আলিমুন শেখ (৯) নামে এক শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তার। বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে বসে রোগে ভুগছে শিশুটি। দিনদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। দরিদ্র আলিমুনের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার সুচিৎসার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, ছোট শিশু আলিমুন সুস্থ্য হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক।

মো. জাহিদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক শৈল্য চিকিৎসক আলিমুনের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দিলে তা ভাইরাল হয়। ওই সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে তা জানতে পেরে গণমাধ্যম কর্মীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু আলিমুন ঘরের বারান্দায় বসে খাবার খাচ্ছে। মাথাটা ফোলা। হঠাৎ কেউ দেখলে আতৎকে উঠবে। তার মাথার বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিউমার সাদৃশ্য। যা দেখতে অনেকটা টিউমারের মতই। মাথা থেকে এখন পিঠে ও হাঁটুতেও উঠতে শুরু করেছে। তবে ছোট্ট এই শিশুর শরীরে কি রোগের কারণে মাথা ও শরীরে গোটাগোটা দেখা দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রোগ সম্পর্কে বলতে পারবে বাগেরহাটের চিকিৎসকরা। তারা শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর গ্রাম। এই গ্রামে এক শতক জমির ওপর কুঁড়ে ঘরে আলিমুন মা সখিনা বেগম, দাদী কুলসুম বেগম, বড় ভাই শুকুর আলী শেখ বসবাস করে। বাবা আজাহার শেখ তিন বছর আগেই মারা গেছেন। মা সখিনা বেগম দিনমজুর। রাস্তা ও পরের বাড়িতে কাজ যে টাকা রোজগার করেন তা দিয়েই কোনো রকমে চলে সংসার। অভাবের সংসার চালাতেই মা সখিনাকে হিমশিম খেতে হয়। এই অভাবের মধ্যে কিভাবে তিনি অসুস্থ্য ছেলের চিকিৎসা করাবেন।

আলিমুনের বড় চাচী শরীফা বেগম বলেন, চার থেকে পাঁচ বছর আগে আলিমুনের মাথায় টিউমারের মত দেখা দেয়। তখন ওর বাবা আজাহার বেঁচে ছিলেন। সে সময়ে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিলো। ধার-দেনা করে সে সময়ে আলিমুলকে কিছু দিন ওষুধ খাওয়ানো হয়। খুলনা মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে তা আর করা হয়নি। আমাদের পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারছি না। সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে এমটাই চান আলিমুনের এই আত্মীয়।

স্থানীয় শৈল্য চিকিৎসক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি চিকিৎসকের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত গণশিক্ষা কার্যক্রমে শিশুদের প্রাক শিক্ষা দিয়ে থাকি। এখানে আলিমুন নামে ওই শিশুটি পড়তে আসে। ওর মাথায় ছোট ছোট টিউমারের মত দেখতে পাই। ওর যে রোগ তা আমার মত চিকিৎসক তার চিকিৎসা করতে পারবে না। আমি শিশুটির সুচিৎসার জন্য কিছু করতে চাই। তাই আমি তার ছবি তুলে ফেইসবুকে দিয়ে দেই। সরকার তার সুচিৎসার জন্য এগিয়ে আসবে বলে আশা তার।

গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির পিটিবিনিউজ.কমকে বলেন, আমরা এই শিশুটির অসুস্থতা জানতাম না। এখন জানতে পেরেছি। তাই এখন তার সুচিকিৎসার জন্য বৃত্তবানদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি। বৃত্তবান ও সরকার এগিয়ে আসলে শিশুটি আবার সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অরুণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুটির অসুস্থতার কথা জানতে পেরেছি। তার শরীরে কি রোগ হয়েছে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে বলা যাবে না। আমরা শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। তাঁকে এনে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। এখানে যদি তার চিকিৎসা সম্ভব না হয় তাহলে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page