বাংলাদেশের কাছে হেরে লঙ্কান ক্রিকেটের মৃত্যু!

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ শুরু হয়েছিলো ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট। ১৪০ বছর পার করে ২২৫৪তম ম্যাচটি কলম্বোতে শুরু হয়েছিলো ২০১৭ সালের ১৫ মার্চই। ১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ‘অ্যাশেজ’ হেরেছিলো ক্রিকেটজনক ইংল্যান্ড। তারপর একটি ইংলিশ সংবাদপত্র ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে তাদের কাগজে ‘এপিটাফ’ ছেপেছিল। ঠিক একই কাজ এবার করলো শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত সংবাদপত্র আইল্যান্ড। বাংলাদেশের কাছে টেস্ট হারের পর ১৯ মার্চ ২০১৭কে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের মৃত্যুদিবস ঘোষণা করেছে তারা। সেই সঙ্গে ১৩৫ বছর আগে ইংল্যান্ডের সংবাদপত্রের মতো করে তারাও লঙ্কান ক্রিকেটের ‘এপিটাফ’ ছেপেছে। লঙ্কান ক্রিকেটের মৃতদেহ পুড়িয়ে ‘ছাই’ বাংলাদেশে পাঠানোর কথাও বলেছে তারা।

অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ ম্যাচ শেষেই বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে এই হার তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারগুলোর একটি। শ্রীলঙ্কান ইংরেজি পত্রিকা দ্য আইল্যান্ড তো আজ তাদের ওয়েবসাইটে এই হারকে ‘মৃত্যুসম’ বলে নিজ দেশের ক্রিকেটের এক ‘এপিটাফ’ই প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের কাছে শ্রীলঙ্কার হারের পর আইল্যান্ডে প্রকাশিত এপিটাফটা এমন-
দ্য আইল্যান্ড মৃত্যুফলক বানিয়ে তাতে লিখেছে, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে। মৃত্যু: ১৯ মার্চ, ২০১৭, স্থান: দ্য ওভাল ( পি সারা ওভাল)। এই মৃত্যুতে তার সকল শুভানুধ্যায়ী গভীরভাবে শোকাহত। আর.আই.পি (রেস্ট ইন পিস-আত্মা স্বর্গলাভ করুক)। পুনশ্চ: মৃতদেহ দাহ করা হবে এবং ছাই নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশ।’

এটি যতটা না ক্রিকেটের মৃত্যু, তার চেয়ে বেশি ক্রিকেটীয় অহংবোধের মৃত্যুর প্রতীক। বাংলাদেশের কাছে নিজেদের মাঠে হেরে যাওয়াকে শ্রীলঙ্কার অন্যতম পত্রিকাটি সেভাবেই দেখছে। পি সারা ওভালে শততম টেস্টে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় লঙ্কান ক্রিকেটের ‘মৃত্যু’ হয়তো নয়; তবে এটি অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

এর আগে ১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে অ্যাশেজ হারার পর ইংলিশ সংবাদপত্রে অনুরূপ একটি ‘এপিটাফ’ ছেপেছিলো। সেবার ইংলিশ সংবাদপত্রটির এপিটাফ’ ছিলো এমন, ‘গভীর দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে ১৮৮২ সালের ২৯ আগস্ট ওভালে ইংলিশ ক্রিকেটের মৃত্যু হয়েছে। বন্ধু ও সুহৃদরা এই মৃত্যুতে শোকাহত। আর.আই.পি। বিশেষ দ্রষ্টব্য: মৃতদেহ পুড়িয়ে ছাইগুলো অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ড ৭ রানে টেস্ট হেরে যাওয়ার পর ব্রুকস এটিকে প্রতীকী মৃত্যু হিসেবে দেখেছিলেন। এর পরপরই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার এই আদি দ্বৈরথ ‘অ্যাশেজ’ সিরিজ নামে বিখ্যাত হয়ে যায়।

সম্পাদনা : সূর্য দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page