বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষেত্র বিশেষে ঋণের কিস্তি মওকুপের আহ্বান ত্রাণমন্ত্রীর

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ফাইল ছবি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণের কিস্তি বছর খানেকের জন্য স্থগিত বা ক্ষেত্র বিশেষে মওকুপ করতে এনজিওদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। বন্যাপ্লাবিত উত্তরাঞ্চল সফরের চতুর্থ দিন সোমবার (১৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুরের চর এলাকার বন্যা কবলিত এলাকাসমুহ পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দু:খ-কষ্টের কথা শুনে ‘এনজিও ঋণ’ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

বন্যাপ্রবণ এলাকার অতি দরিদ্র এবং নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ঘর নির্মাণের ঘোষণা দেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

 

মায়া করেন, বন্যা প্লাবিত মানুষের জন্য ত্রাণের অভাব নেই। তবে সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ত্রাণ দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে, যাতে প্রত্যেক মানুষ ত্রাণ সামগ্রী পায়।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়ে বলা হয়, মন্ত্রী মায়া চিলমারী ও উলিপুরের চর এলাকায় এক হাজার ২০০ লোকের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। কষ্ট লাঘব না হওয়া পর্যন্ত সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন।

এ সময় সাংসদ রুহুল আমিন, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল, জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. ফেরদৌস খান, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার রাতে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভা করেন। সভায় মায়া বলেন, সরকার বন্যা প্লাবিত জেলাসমূহে এ যাবৎ ৬১ হাজার মেট্রিক টন চাল, নগদ এক কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩৯ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজনে আরো খাদ্যশষ্য বরাদ্দ করবে। তিনি বলেন, প্রতি জেলায় ঘন্টায় দুই হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি বিশুদ্ধকরণ মোবাইল গাড়ি ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানির কারণে সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে যা চলমান রয়েছে।

সভায় মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকদের চাহিদা মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যশষ্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। একটি লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায় সর্বাত্মকভাবে সে-চেষ্টা চালিয়ে যেতে জেলা প্রশাসনকদের নির্দেশনাও দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণে কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতারও পরিচয় দিতে হবে।

কুড়িগ্রামে ত্রাণ বিতরণ শেষে ত্রাণমন্ত্রী লালমনিরহাট জেলার বন্যাপ্লাবিত এলাকা পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হন।

সম্পাদনা: অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page