প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু ২০ নভেম্বর, শিক্ষার্থী কমেছে ২৪ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম

0
আগামি ২০ থেকে ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ৭ হাজার ১৯৪টি এবং বিদেশের ১১টি কেন্দ্রে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হবে।
আগামি ২০ থেকে ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ৭ হাজার ১৯৪টি এবং বিদেশের ১১টি কেন্দ্রে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হবে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০ নভেম্বর (রোববার) থেকে শুরু হবে। চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের সাত হাজার ১৯৪টি এবং বিদেশের ১১টি কেন্দ্রে প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হবে বেলা ১১টায়, শেষ হবে দেড়টায়। পরীক্ষায় এবার ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। গত বছর ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষার জন‌্য নিবন্ধিত হয়েছিলো। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ২৪ হাজার ২২৬ জন।

১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক সমপানীতে এবার ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৩ জন পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩২ জন ছাত্র এবং ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪১ জন ছাত্রী। আর ইবেতেদায়ির ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৯ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৬ জন ছাত্রী। এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ২ হাজার ৮৫৭ জন এবং ইবতেদায়িতে ৯০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক) পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

প্রাথমিক সমাপনীর সূচি: ২০ নভেম্বর ইংরেজি, ২১ নভেম্বর বাংলা, ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৪ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ও ২৭ নভেম্বর গণিত।

ইবতেদায়ী সমাপনী সূচি: ২০ নভেম্বর ইংরেজি, ২১ নভেম্বর বাংলা, ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৩ নভেম্বর আরবি, ২৪ নভেম্বর কুরআন ও তাজবীদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ, ২৭ নভেম্বর গণিত।

মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক সমাপনী চলবে
গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, যতো দিন পর্যন্ত না মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হবে, ততো দিন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলতে থাকবে। গত মে মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথসভা করে ঘোষণা দিয়েছিলো, প্রাথমিক শিক্ষা এখন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হলো। এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে  মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠাবে। শিক্ষামন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘উনি ২০১৮ সালের মধ্যেই এটা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করেছেন। আমিও সেই আশাই করছি।’ তবে শিক্ষামন্ত্রীর আন্তরিকতার অভাব আছে বলে তিনি মনে করেন না।

উল্লেখ্য, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়ীতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেয়া হচ্ছে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা হত; ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্নে গত বছর থেকে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর ছাড়াও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page