প্যারিসে হামলার দায় স্বীকার আইএস’র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো দুই পুলিশ সদস্য। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ওই হামলাকারী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিখ্যাত আভন্যু দে শঁজেলিজে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলন্দ বলেছেন, এটি যে জঙ্গিদের কাজ, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। অন্যদিকে ইসলামিক স্টেটও দাবি করেছে, তাদের এক যোদ্ধা পুলিশের ওপর ওই হামলা চালিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পিয়েরে অঁরি ব্রান্ড জানান, গতকাল রাত ৯টার দিকে একটি গাড়ি ওই রাস্তায় একটি পুলিশ বাসের পাশে আসে দাঁড়ায় এবং সেখান থেকে নেমে এসে এক ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে বাসে গুলি চালায়। একজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার পর অন্যদের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করে ওই হামলাকারী। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে তার মৃত্যু হয় বলে জানান মুখপাত্র।

প্যারিসের প্রসিকিউটর ফ্রঁসোয়া ময়াঁ জানিয়েছেন, হামলাকারীর পরিচয় তারা জানতে পেরেছেন এবং সেসব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আইএস তাদের মুখপত্র আমাকে বলেছে, ওই হামলাকারী তাদের যোদ্ধা এবং তার নাম আবু-ইউসুফ আল-বালজিকি।

বিবিসি লিখেছে, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এবং নিয়মিত দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনার কারণে শঁজেলিজে সন্ত্রাসীদের হামলার লক্ষ্যস্থল হতে পারে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিলো।

বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পরপরই প্রশস্ত ওই অ্যাভিনিউ বন্ধ করে দেয়া হয়। আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা যায় এবং পুলিশ মাইকে সবাইকে সরে যেতে বলে।

খবর পেয়ে প্রেসিডেন্ট ওলন্দ জরুরি ভিত্তিতে তার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি বলেন, পুরো জাতি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আছে এবং নিহত পুলিশ সদস্যের প্রতি জাতীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

আগামী রোববার অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েকজন প্রার্থী শঁজেলিজের ওই হামলায় নিহত পুলিশের সদস্যের প্রতি সম্মান দেখাতে আগেই প্রচারাভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। মধ্য-ডানপন্থি নেতা ফ্রঁসোয়া ফিয়ঁ অন্য প্রার্থীদেরও একই পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে ফ্রান্সে নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাজনীতির আলোচনায়। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে ফ্রান্স। এসব হামলায় দুই শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। দেশটি বর্তমানে জরুরি অবস্থার মধ্যে আছে।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page