পরিবহনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই খুব প্রভাবশালী: সড়কমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি।

বেসরকারি সড়ক পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে প্রভাবশালীরাও রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গাড়ির সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁরা খুব সামান্য মানুষ না। তাঁরা অনেকেই খুব প্রভাবশালী। তাদের কারণে অনেক সময় বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ১৯৯১ সালের ২৯ মার্চ রাজধানীর মৌচাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) কর্তৃক ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

রাজধানীর গণপরিবহনে ১৫ এপ্রিলের পর থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধের ঘোষণা দেয় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানায়, ঢাকায় সিটিং সার্ভিস বন্ধে ১৬ এপ্রিল থেকে অভিযান চালানো হবে। ১৬ এপ্রিল, রোববার সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন শুরুর পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বচসা-মারামারির ঘটনা ঘটে বিভিন্ন স্থানে। অনেক মালিক রাস্তায় গাড়ি না ছাড়ায় যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। ১৭ এপ্রিল, সোমবারও বাস না পেয়ে বিভিন্ন মোড়ে যানবাহনের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের। কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের এক তৃতীয়াংশ গাড়ি রাস্তায় নামেনি।

এ বিষয়ে ১৮ এপ্রিল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়কপরিবহনমন্ত্রী বলেন, কেউ নানা অজুহাতে যদি গাড়ি না চালায় আমরা কি… । আমাদের দেশের বাস্তবতায় কি জোর করে গাড়ি নামাতে পারবো? আর গাড়ির সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁরা খুব সামান্য মানুষ না, তাঁরা অনেকেই খুব প্রভাবশালী। তাঁদের কারণে অনেক সময় বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তারপরও রাশ আওয়ারে যে পরিমাণ গাড়ি থাকে সে তুলনায় কম, তবে গাড়ি আছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি জনগণের দুর্ভোগ ও কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি একটু সক্রিয় বিবেচনায় নিয়ে সমাধন করা উচিত। পত্রপত্রিকার লেখালেখিও আমার চোখে পড়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার বৈঠক হবে। বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় বিআরটিএ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সড়কে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে সিটিং সার্ভিসকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ধরনের কিছু আছে কি না সেটা রিভিউ করলে বলা যাবে, সেখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হবে। জনস্বার্থ কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সেটা বিআরটিএর চেয়ারম্যান ও মালিক সমিতির নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছি। বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে সকালে (মঙ্গলবার) ডেকে কথা বলেছি।

পরিবহনের মালিকরা যাত্রীদের জিম্মি করলেও গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করা হচ্ছে না কেনো- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, যখন ফিটনেসের বিরুদ্ধে অভিযান করতে চাই তখন অফ রোড হয়ে যায়, দুর্ভোগ হয়। দুই ধরনের সমালোচনায় তোপের মুখে পড়ি আমরা। দায়টা আসে আমাদের ঘাড়ে। ফিটনেসের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে রাস্তায় গাড়ি নামে না, সেটা আরেকটা বিষয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিআরটিসি পুরো সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে আশ্বাস দেন কাদের।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী নাফিয়া গাজির পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আড়াই লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। বিআরটিসি আদালতের রায় অনুযায়ী নাফিয়ার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিবে।

ক্ষতিপূরণ প্রদান অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিবসহ উধ্বর্তৃন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page