নৌখাতকে উপেক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক অকালপ্রয়াত ড. আব্দুর রহীমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় নৌ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছেন পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রাক্তন মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। ছবি: পিটিবিনিউজ.কম।

* জাতীয় কমিটি আয়োজিত ড. রহীম স্মরণসভায় বিশিষ্টজনেরা

বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও কৃষিনির্ভর হওয়ায় অভ্যন্তরীণ নৌপথ সারা দেশে বিস্তৃত এবং কৃষিতে সেচসুবিধার প্রধান উৎস প্রাকৃতিক পানিসম্পদ। বিস্তীর্ণ জনপদে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রধান মাধ্যম নৌপথ। এছাড়া নৌ পরিবহন খাত পরিবেশবান্ধব, তুলনামূলক আরামদায়ক ও ব্যয়সাশ্রয়ী। তাই নদ-নদীসহ প্রাকৃতিক পানিসম্পদ ও নৌ পরিবহন খাতকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরান পল্টনে কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট নৌ পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুর রহীমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটি ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় নৌ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত আব্দুর রহীমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। মূল আলোচনা শুরুর আগে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে নদ-নদী ও নৌ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য রাখেন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। দেশের নদ-নদীসহ প্রাকৃতিক পানিসম্পদ ও মানুষের জীবন-জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে নৌ পরিবহন ব্যবস্থাকে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানান তিনি।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলাম বলেন, নদী রক্ষা ও নৌখাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা থাকা দরকার। তবে সরকারকেই মূখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশবাদীসহ সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই নৌ পরিবহন বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদকম-লীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, অতীতের সরকারগুলো নৌখাতকে উপেক্ষা করে সড়ক পরিবহনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এর পেছনে বহুজাতিক অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর ষড়যন্ত্র এবং এ দেশের এক শ্রেণির আমলা ও অসাধু রাজনীতিবিদের অর্থলিপ্সা ছিলো। তবে বর্তমান সরকার নদী রক্ষাসহ নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিয়েছে। কিন্তু লুটেরা-ভূমিদস্যু এবং কিছু আমলা ও রাজনীতিবিদের দুর্নীতির কারণে নদ-নদী রক্ষা ও নৌখাতের আশানুরূপ উন্নয়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বুয়েটের নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথ যেমন আরামদায়ক ও ব্যয়সাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধব। এছাড়া নৌপথে দুর্ঘটনাও তুলনামূলক অনেক কম। সুতরাং নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া দরকার। এ ব্যাপারে সরকারসহ সব মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই নৌ পরিবহন বিশেষজ্ঞ।

পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও কৃষিনির্ভর হওয়ায় সারা দেশে নৌপথ বিস্তৃত এবং কৃষিতে সেচসুবিধার প্রধান উৎস প্রাকৃতিক পানিসম্পদ। বিস্তীর্ণ জনপদে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রধান মাধ্যম নৌপথ। অথচ নদী ও নৌ পরিবহন ব্যবস্থা চরম অবহেলার শিকার। কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ আমলা, প্রকৌশলী, রাজনীতিক ও দখলদার ভূমিদস্যুর কারণে নদীগুলো ধ্বংস হচ্ছে, নৌপথ সংকুচিত হচ্ছে। নদী ও নৌখাতকে উপেক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ।

জাতীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিটিজেন্স রাইট্স মুভমেন্টের সভাপতি মেজর (অব.) মো. মফিজুল হক সরকার, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক পরিচালক মো. মাহাবুবুল আলম, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব চৌধুরী আশিকুল আলম, যাত্রী অধিকার পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, অর্থ সম্পাদক পুষ্পেন রায়, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জসি সিকদার, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস প্রমুখ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page