নেত্রকোনা গিয়েও রিকশায় চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
১৮ মে নেত্রকোনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা খালিয়াজুড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে রিকশায় চড়ে জেলা ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফেসবুক থেকে ছবি নেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে জনগণের নেত্রী সেটা আবারো প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি গোপালগঞ্জে ভ্যানে উঠে ঘুরে বেড়ানোর পর এবার নেত্রকোনায় অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় চড়েছেন শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে জেলার প্রত্যন্ত হাওর উপজেলা খালিয়াজুড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে রিকশায় চড়ে তিনি জেলা ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রিকশায় বসে হাস্যোজ্জ্বলভাবে চারপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করেন। ডাকবাংলো পর্যন্ত পৌঁছাতে সরকারপ্রধানের সময় লাগে ১০ মিনিটের মতো। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশার চালক ছিলেন টিপু সুলতান। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশুহুরা এলাকায়। ভ্যানের পর রিকশার চড়ার প্রধানমন্ত্রীর এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ডাকবাংলো পরিষদে যাত্রা পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম পরিচয় জানতে চান। এ সময় রিকশা চালক বলেন, তাঁর নাম টিপু সুলতান। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশুহুরা এলাকায়। পড়াশোনা কতো দূর পর্যন্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু সুলতান বলেন, তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবা-মাসহ (পাঁচ ভাই পাঁচ বোন) তাঁর পরিবারের সদস্য ১২ জন। এরপর প্রধানমন্ত্রী টিপু সুলতানকে তিন হাজার টাকা উপহার দেন।

রিকশা চালক টিপু সুলতান যে রিকশাটি চালিয়েছেন, সেটিসহ তিনটি রিকশা জেলা প্রশাসন এনেছিলেন। এর একটি রিকশায় টিপু সুলতান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত নিয়ে যান।

রিকশাটি টিপু সুলতানকে দেয়া হবে কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন, রিকশাটি টিপু সুলতানকে দেয়া হবে।

১৮ মে নেত্রকোনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা খালিয়াজুড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে রিকশায় চড়ে জেলা ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফেসবুক থেকে ছবি নেওয়া।

দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দুটি রিকশা বিতরণ করেন। এ সময় তিনি একটি রিকশায় চড়েন। নেত্রকোনার খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে থানা মোড় পর্যন্ত যান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ সফররত প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভ্যানে চড়ে টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর কোলে নাতি, পাশে নাতনি ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ভাগ্নে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও তাঁর স্ত্রী পেপি। দেখা যায়, হাস্যোজ্জ্বল শেখ হাসিনা তাদের নিয়ে বসে আছেন ভ্যানে। শীতের সকালে ভ‌্যানে পৈত্রিক এলাকায় রিকশা ভ‌্যানে চেপে প্রধানমন্ত্রীর এই ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদেরও আশপাশেই দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানে চড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রধামন্ত্রীকে বহনকারী সেই ভ্যান চালক বিমান বাহিনীতে চাকরি পান।

ছবি: পিআইডি।

এর আগে উপজেলা খালিয়াজুড়ি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুর্গত পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন। পরে জনগণের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এক হাজার ২০০ মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা করে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে রিকশায় চড়ে জেলা ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত যান।

ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিডবোটে করে নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা বল্লভপুর পরিদর্শন করেন। ওই সব এলাকা পরিদর্শনকালে শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গত ১২০টি পরিবারের মধ্যে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। বেলা সোয়া ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসের আগাম বৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আগাম বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি হয়। নষ্ট হয় হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। মৎস্য সম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ এপ্রিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জে যান। বন্যার পর আজকের সফরটি হাওরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page