দৃষ্টান্তমূলক রায়ে স্বস্তি অনুভব করছি: অ্যাটর্নি জেনারেল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
ফাইল ছবি।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার আপিলের রায়কে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে হাই কোর্ট বিভাগ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। এটাকে একটা দৃষ্টান্তমূলক রায়ই বলবো আমি। আমরা স্বস্তি অনুভব করছি।

কোন আসামির কি সাজা হয়েছে তাও জানান রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এই মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে যেটা দেখতে পাচ্ছি, মূল হোতা যে চারজন ছিলেন- তারা ছাড়া মেজর আরিফের টিমে যারা ছিলেন- মাইক্রোবাসে..তাদের সকলেরই ফাঁসি হয়েছে। বস্তা তৈরিতে অর্থাৎ বালুর বস্তা তৈরির টিমে ছিলেন..ছয়জনের মধ্যে তিনজনের হয়েছে ফাঁসি। একজনের হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুইজনের সাত বছরের জেল। নূর হোসেনের টিমে যারা ছিলো- তাদের সকলেরই যাবজ্জীবন হয়েছে, নূর হোসেন ছাড়া। রানার টিমে যারা ছিলো- তাদের সবাইকে অর্থাৎ সাতজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরেকজন ছিলো- আশরাফুজ্জামান, যে কি-না ইঞ্জেকশন যোগাড় করে দিয়েছিলো, নিম্ন আদালতে তার ফাঁসির আদেশ হয়েছিলো- তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, অপরাধ যে কোনো লোক করতে পারে- সেটা বাহিনী হোক কিংবা উচ্চপদে আসীন কোনো ব্যক্তি হোক। কতিপয় অপরাধীর জন্য কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা ঠিক হবে না। ১১ জনের সাজা কমানোর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি-না, পুরো রায় পড়ার পর সে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। এছাড়া সাজা কমিয়ে বাকি ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে ৯ জনকে দেয়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের রায়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি হাইকোর্টে। আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি মরদেহ। পরদিন মেলে আরেকজনের মরদেহ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

ঘটনার একদিন পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page