‘ত্রিপুরাপাড়ায় ৯টি শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম’

বিশেষ সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ত্রিপুরাপাড়ায় ৯টি শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম। এখানকার শিশুদের কোনো দিন কোনো টিকা দেয়া হয়নি। আজ সোমবার বিকালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত ও হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে যে এসব শিশু হামের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। তবে, অপুষ্টিতে ভুগছিলো বলে দাবি করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, ওই পাড়াতে ৮৫টি পরিবার আছে এবং ৩৮৮ বাসিন্দা আছে। এদের কেউ হামের টিকা পায়নি। এতে আরো বলা হয়, এই পাড়ার কোনো মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য সেবা পায় না।

তবে, লিখিত বক্তব্যে মহাপরিচালক ঘটনার পর নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, ত্রিপুরাপাড়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং তার অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চমৎকার দায়িত্ব পালন করেছে।

ত্রিপুরাপাড়ায় টিকা না দেয়া কাদের ব্যর্থতা-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা বলেছিলাম, কিন্তু ত্রিপুরাদের মতো কিছু কিছু পাহাড়ি আছে যাদের সম্পর্কে আমরা জানি না। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। এবং মাঠ পর্যায়ের লোকেরা কোনো ধরনের অবহেলা করেছে কিনা তার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছি।

এখন থেকে পাহাড়িদের কাছে নিয়মিত সেবা নিয়ে যাওয়ার আশ্বস দেন স্বাস্থ অধিদপ্তরের এই মহাপরিচালক।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক সানিয়া তাহমিনা, আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সাবরিনা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরিচর্যা) এ বি এম জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দীকী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই পাহাড়ি টিলায় অসুস্থতার কারণে একটি শিশুর মৃত্যু হয়। পরদিন ৯ জুলাই আরো দুইজন শিশু মারা যায়। সম্প্রাদায়গত প্রথা হিসেবে তারা এটিকে বালা মনে করে ভীত হয়ে ওই রাতে মশাল জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন। পরদিন কোনো শিশুর মৃত্যু না হওয়াতে তারা মনে করেন প্রার্থনা কাজে লেগেছে। কিন্তু একদিন পর ১১ জুন আরো একজন শিশু মারা যায় এবং ১২ জুন একই দিনে চারজন শিশু মারা যায়। সম্প্রদায়টির কয়েকজন তরুণ পাশের বাঙালিদেরকে জানালে তারা সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানান। এরপর তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page