‘তিস্তা চুক্তির অপেক্ষায় বাংলাদেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ফাইল ছবি।

তিস্তার পানি বন্টন প্রশ্নে এবার ভারত তার আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চুক্তিটি চূড়ান্ত করবে। তাই বাংলাদেশ চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এর আগে ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিটি খসড়া করা আছে, তা পরবর্তীতে চূড়ান্ত রূপ নেবে। বুধবার (১৪ মার্চ) রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পানি সম্মেলনে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। অন্যদিকে, সরকারের আরো দুই মন্ত্রী বলেছেন, গঙ্গা চুক্তির মতো তিস্তা চুক্তি হয়ে যাবে। এই নিয়ে কারো দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার কারণ নেই। তিস্তা চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ করতে পারবেন না।

“ওর্য়াকশপ অন এসেসমেন্ট অব দ্যা স্ট্যাট অফ ওয়াটার রিসোর্সেস” শীর্ষক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি ছিলো না। ছিলো জনগণের সামনে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকালে তিস্তা চুক্তির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে আনিসুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো সময় বেধে দিতে পারি না। তবে আমি বলতে পারি, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে কাজ করছে। তারা এ বিষয়ে আন্তরিক। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পেক্ষাপটে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আমরা সবাই সে সম্পর্কে অবহিত রয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই বাংলাদেশ তিস্তার পানির যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত দাবির বাস্তবায়ন চায়। এটা আমাদের দেশের কৃষির জন্য শুধু নয়। নদী রক্ষার জন্য ন্যায্য হিস্যা দরকার। তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ বিগত দুই বছর আগে হঠাৎ করে বেশি হ্রাস পেয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বেঠকে তিস্তা ব্যারেজ ইস্যু আলোচনার জন্য কোনো এজেন্ডা হিসাবে থাকবে কিনা তা বলতে অস্বীকার করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, যখন বড় ধরনের কোনো আলোচনা দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে হয়, এজেন্ডার বাইরে অনেক বিষয় সেখানে উঠে আসে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরেও নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়ে থাকে।

তিস্তা চুক্তিও হয়ে যাবে: কাদের
এদিকে, বুধবার (১৫ মার্চ) নোয়াখালীতে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গঙ্গা চুক্তির মতো তিস্তা চুক্তি হয়ে যাবে। তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ৪১ বছরের সীমান্ত চুক্তি ও ছিট মহল বিনিময় এবং গঙ্গা চুক্তি যিনি করেছেন, তিস্তা চুক্তিও তিনি করবেন। আগামি ৭ এপ্রিল চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত যাচ্ছেন। সেখানে দেশের স্বার্থে খোলামেলাভাবে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন। তা অবশ্যই প্রকাশ্যেই করবেন। এ নিয়ে পানি ঘোলা না করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান কাদের।

তিস্তা চুক্তি শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ করতে পারবেন না: নাসিম
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করবেন না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ১৩ মার্চ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট ভবনে ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা যা করবেন, তা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থেই করবেন। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি তিনি করবেন না। তিস্তা চুক্তি শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ করতে পারবেন না।

সূচি অনুযায়ী, চারদিনের সফরে আগামি ৭ এপ্রিল প্রতিবেশি দেশ ভারত যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন তিনি। ৮ এপ্রিল দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। তাঁর এই সফরের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের উষ্ণ এবং সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের আরো অগ্রগতি হবে। বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় হবে এবং দুই নেতার মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠবে। ১৪ মার্চ ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা তা পেছায়। প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফর হচ্ছে সাত বছর পর। সবশেষ ২০১০ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছিলেন তিনি।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page