ঢাকায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট, উঠতে পারে নিষেধাজ্ঞা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম

0

maliyদুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জায়েমের নেতৃত্বে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল।। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁরা ঢাকায় আসেন। প্রতিনিধি দলটি দুপুর হোটেল লা মেরিডিয়ানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসির সঙ্গে বৈঠক করবে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যে এই প্রতিনিধি দলের সফর বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে) কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এ ‘সুখবরটি’ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ফলাও করে ছাপা হয়। ১৫ লাখ কর্মী নিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একদিন পরই (১৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটি ঘোষণা দেয়, বাংলাদেশিসহ কোনো বিদেশি কর্মীই তারা আপাতত নেবে না। তারপর কেটে গেছে ১০ মাস। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে সীমিত সংখ্যক কর্মী যাচ্ছেন। তবে সমঝোতা স্মারকের আওতায় কোনো কর্মী যাচ্ছেন না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আজকের বৈঠকের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় ২০০৯ সালে। সরকারিভাবে কর্মী পাঠাতে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর দেশটির সঙ্গে জিটুজি চুক্তি করে বাংলাদেশ। জন প্রতি ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে বৃক্ষরোপণ খাতে পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মী যাওয়ার কথা ছিলো। প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ কর্মী নিবন্ধন করেন। কিন্তু তিন বছরে এ পদ্ধতিতে মাত্র ৯ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যান। জিটুজির ব্যর্থতায় গত বছরের জুনে ঘোষণা করা হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (বিটুবি) কর্মী পাঠানো হবে। দুই মাস পর ঘোষণা আসে, সরকারি নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে। বাংলাদেশ থেকে দুই দফায় ৯৫৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা মালয়েশিয়াকে দেয়া হয়েছে। এসব রিক্রুটিং এজেন্সিকে কি পদ্ধতিতে রিক্রুটিংয়ের দায়িত্ব দেবে সেটা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ছাড়াও এই প্রতিনিধিদলে আছেন, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নুর আশিকিন বিনতে মোহাম্মদ তায়েব, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক শাহনিয়ার বিন দারুসমান, ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক হাজি মুস্তাফার বিন হাজি আলী, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেফরি বিন জোয়াকিম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব জামিরি বিন মাত জিন, অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক খায়রুল খায়ের বিন ইয়াহিয়া, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সহকারী সচিব শাহাবুদ্দিন বিন আবু বকর ও মানবসম্পদমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তা রবার্ট আনাক দাপন।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page