গ্রামেও ঘর নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ভূমি ব্যবহারে ছাড়পত্র লাগবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: নাছির উদ্দিন, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

জেল-জরিমানার বিধান রেখে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন-২০১৭- এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে নগরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বাড়িঘর নির্মাণ এবং যেকোনো উন্নয়নকাজে ভূমি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এটি অনেক দিনের প্রত্যাশিত আইন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় যেনো শৃঙ্খলা আসে সেজন্য এই আইন করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে যেনো জমির ব্যবহার করা হয় সেজন্য আইনে অনেকগুলো প্রস্তাব আছে। সোমবার (২০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে ১৯ মার্চ শততম টেস্ট ম্যাচে অবিস্মরণীয় জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানায় মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

শফিউল আলম বলেন, খসড়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যাদের মূল দায়িত্ব হবে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বা তাদের ছোট পরিষদের তত্ত্বাবধান করা। এছাড়া, গণপূর্ত সচিবের নেতৃত্বে থাকবে ২৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদ মূলত নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে কাজ করবে। আর উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে নির্বাহী পরিষদের কাজ। এছাড়া, জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের কাছে পরিকল্পনাগুলো সুপারিশসহ উপস্থাপন করবে নির্বাহী পরিষদ। ভূমি ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র নিতে হবে। সব সরকারি-বেরকারি সংস্থা, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যাদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে- সেসব সংস্থা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপদেষ্টা পরিষদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে।

উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়পত্র দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দিতে পারবে জানিয়ে সচিব বলেন, রাজউকসহ এ সংক্রান্ত অন্য কর্তৃপক্ষের কাজের সমন্বয় করবে উপদেষ্টা পরিষদ। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে নগর ও অঞ্চলের পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা প্রণয়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া যাবে। এ আইনের অধীনে প্রণীত পরিকল্পনা, বিধি, কোনো আদেশ, নির্দেশ মোতাবেক কাজ না করলে বা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এগুলো লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেয়া যাবে।

শফিউল বলেন, গ্রাম এলাকাতেও কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলো তাদের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলোতে নিজেরাই অনুমোদন দেবে। পৌরসভা ও স্থানীয় পরিষদ নিজেদের গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করবে। ইতিপূর্বে তারা যেসব কাজ করছে তা এই আইনের মধ্যে গণ্য হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে ‘মানুষের বাড়িঘর নির্মাণের বিষয়টিও’ আছে। ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি গ্রাম পর্যায়ে চলে যাবে। এটি পুরো দেশ কভার করবে। সারা দেশের যেকোনো জমি ব্যবহার করতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: নাছির উদ্দিন, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

সচিব বলেন, গ্রামে বাড়িঘর তৈরির আগে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম এখনো আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নেওয়া হয় না। কৃষি জমিতে বাড়ি করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু মানুষ সাধারণত সেই অনুমতি নেয় না। এগুলো আইনে আছে, পালন করা হয় না বলতে পারেন।

নতুন আইন তৈরির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শফিউল আলম বলেন, জমির অপব্যবহার ঠেকানো এর অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনা করে যেনো আমরা ল্যান্ড ইউজ করি। জমির মিসইউজ যেনো কম হয়।

প্রতি বছর এক শতাংশ করে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেটা ‘ঠেকানো দরকার’। প্রস্তাবিত নতুন আইনে যেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা নেই, সেগুলো বিধির মাধ্যমে বিশদ করা হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া, আজকের সভায় ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদের জারি করা পরিপত্র ‘ক’ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘ক’ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ হলো, দিবসটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হবে। এছাড়া, আজকের সভায় বালাইনাশক আইন-২০১৭, বস্ত্র আইন-২০১৭ এবং প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন-২০১৭-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page