জাল সনদে চাকুরি করার অভিযোগে দুই শিক্ষক বরখাস্ত

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গবাই মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’র দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকুরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার তাঁদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে অফিস আদেশ জারি করেছেন। এদিকে, ওই দুইজন সহকারি শিক্ষক ঢাকা থেকে আসা তদন্ত টিমকে সহযোগিতা না করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত অফিস আদেশ মতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- লালমনিরহাট সদর উপজেলার গবাই মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও একই বিদ্যালয়ের অপর সহকারি শিক্ষক তহমিনা খানম।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ২০১১ সালে গবাই মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন নিয়োগ কমিটির নিকট লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগে দাখিল পাস এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এইচএসসি পাস করার মূল সনদপত্র দাখিল করেন। কিন্তু সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল-এমরান খন্দকারের নেতৃত্বে তদন্তকালে তিনি দাখিল পাস ও এইচএসসি পাসের মুল সনদপত্র দেখালেও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৭ বিএসএস পাসের কোনো সদনপত্র দেখাতে পারেননি। অপরদিকে সহকারি শিক্ষক তহমিনা খানম ২০১১ সালে গবাই মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন নিয়োগ কমিটির নিকট দাখিল করা এসএসসি পাশের সন উল্লেখ করেন ১৯৯৮ সাল। কিন্তু তদন্তকালে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাসের সনদপত্র উপস্থাপন করলেও এইচএসসি পাসে কোনো সনদপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় দাখিলকৃত সনদের সঙ্গে প্রকৃত সনদের মিল না থাকায় তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ জারি করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার।

এদিকে স্থানীয় জৈনক দিপু দেব নামে এক যুবক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর নকল/জাল সনদপত্রে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকতা করার অভিযোগ অনলাইনের (ই-মেইল যোগে) মাধ্যমে দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালকের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা থেকে উপ-পরিচালক(তদন্ত ও শৃঙ্খলা) মোঃ রাজা মিয়া বৃহস্পতিবার সরজমিনে লালমনিরহাটে তদন্তে আসেন। তবে ওই দুই শিক্ষক তদন্ত কর্মকর্তার সামনে হাজির হননি বলে মোঃ রাজা মিয়া স্বীকার করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ফিরে ওই দুই সহকারি শিক্ষককে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্রসহ সাত দিনের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি পাঠাবো। এরপর সার্টিফিকেটগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার এই সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির মতামত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বর্ণিত দুই সহকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page