খাল খননে ব্যাপক পুকুর চুরির অভিযোগ

নজরুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার শাকদহা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তেরছি-শালিখা হয়ে দলুয়া নদী পর্যন্ত খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালটি সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক খনন না করে তড়িঘড়ি করে এ কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এ কাজ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা গেছে, স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে বর্তমান সরকার টেন্ডারের মাধ্যমে উক্ত খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে মোতাবেক ৯.৪০০ কিলোমিটার খাল খননের জন্য এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজটির ঠিকাদার শামীমুর রহমান খালটি খনন কার্যক্রম শুরু করেছেন। কিন্তু খাল খনন করতে হলে অবশ্যই একটি সাইনবোর্ড দিতে হবে। যেখানে খালটি গভীরতা কতটুকু, নিচে ও ওপরের চওড়া কতটুকুসহ খাল খননের বিস্তারিত লেখা থাকবে। অথচ ঠিকাদার সে বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে খালটি গভীর না করে খালের মাটি টেনে নিয়ে দু’ধারে প্রলেপ দিয়ে দিচ্ছেন। খালের ভিতরে গভীর না করে নেল মাটি টেনে দুই পাশের বেড়িবাঁধ দেয়া হচ্ছে। এতে করে পাশের বিলগুলোর পানি নিষ্কাশিত হবে না। ফলে উক্ত বিলগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া খালের কিছু কিছু স্থানে এবং শাকদহা ব্রিজের নিচে স্ক্যাবেটরের কোনো স্পর্শও লাগেনি। সরেজমিনে শাকদহা এলাকায় খাল খননে পুকুর চুরির ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়ে। সেখানে উপস্থিত সাব কন্ট্রাকটার দেলওয়ার হোসেন দুলাল এর সঙ্গে খাল খননের বিষয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, তাদের শুধুমাত্র খালের দু’ধার উচুঁ করা, খালের মধ্যে থেকে নেল মাটি তুলে প্রলেপ দেয়ার কথা রয়েছে। খালের ভিতরের গভীরতার বিষয়ে তাঁকে জানানো হয়নি বলে জানান। এ সময় তার কাছে কাজের সিডিউল দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি।

খালের গভীরতা না বাড়িয়ে এভাবে প্রলেপ দেয়ায় হতাশ হয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী মনে করছেন এভাবে খাল কাটলে তাতে আমাদের কোনো উপকার হবে না বরং বর্ষা আসলেই দুই ধারের মাটি পড়ে খালটি পুনরায় ভরাট হয়ে যাবে। এর ফলে পুনরায় জলাবদ্ধতা শুরু হবে।

এ বিষয়ে তালা কলারোয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, খাল খনন করতে হলে অবশ্যই একটি সাইনবোর্ড দিতে হবে। যেখানে খালটি গভীরতা কতটুকু, নিচে ও ওপরের চওড়া কতটুকু লেখা থাকবে। যাতে জনগণ খাল খনন সম্পর্কে অবগত হতে পারে। কিন্তু এখানে কোনো সাইন বোর্ড না থাকার বিষয়ে তিনি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দোষারোপ করেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার বিপ্লব’র এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খালটি খননে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। আমরা বহু কষ্টে কাজটি করেছি। দয়া করে আর লেখালেখি করবেন না।

এদিকে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খালটি খননে কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। তাছাড়া খনন কাজ তো এখনো শেষ হয়নি। তবে খনন এলাকায় কেনো সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এখনই তাদেরকে বিষয়টি জানাবো।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page