প্রখ্যাত অভিনেত্রী ববিতার জন্মদিন আজ

বিনোদন প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম

0
কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা
কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে উজ্বল নক্ষত্রদের তালিকায় প্রথমদিকেই যার নাম আসে তিনি হলেন ববিতা। যার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। কিন্তু ববিতা নামেই সর্বাধিক পরিচিত তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি জয় করেছেন কোটি ভক্তের হ্নদয়। বাংলা চলচ্চিত্রের এই জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিন আজ। এদিন ৬৩ বছরে পা রাখলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই নায়িকা। ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

ববিতার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা বি জে আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক। তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজভাই ইকবাল ইসলাম  বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

বাবার চাকরি সূত্রে বাগেরহাটে থাকতেন ববিতা। তবে তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায়।  শৈশব এবং কৈশরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে। সেখানে তিনি ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুলে ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রী ছিলেন। পরে যশোর দাউদ পাবলিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন তিনি। সেখানে অধ্যয়নকালে বড়বোন কোহিনুর আক্তার চাটনীর (সুচন্দা) চলচ্চিত্রে প্রবেশের সূত্রে পরিবারসহ চলে আসেন ঢাকায়। গেন্ডারিয়ার বাড়ীতে শুরু হয় কৈশরের অবশিষ্টাংশ। চলচ্চিত্রে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জন না করলেও ববিতা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে শিক্ষিত করে তোলেন। দক্ষতা অর্জন করেন ইংরাজিসহ কয়েকটি বিদেশী ভাষায়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতা। চলচ্চিত্রে তাঁর শুরুটা হয়েছিল গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী পপি (ববিতার ডাক নাম) ‘সংসার’ ছবিতে রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির নির্মাতা ছিলেন জহির রায়হান। ছবিটি মুক্তি পায়নি।

জহির রায়হান ববিতাকে নিয়ে ‘জ্বলতে সুরুজ কা নিচে’ নামে একটি উর্দু ছবির কাজ শুরু করেন। মাঝপথে থেমে যায় ছবিটির কাজ। এরপর জহির রায়হান রাজ্জাক ও ববিতাকে নিয়ে তৈরি করেন চলচ্চিত্র শেষ পর্যন্ত। আর এটিই ছিলো ববিতার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।

তিনি সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। তিনি পরপর তিন বছর একটানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন। ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফ্লিম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান। এছাড়াও সরকারি এবং বেসরকারি অসংখ্য পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এজন্য তাকে ‘পুরস্কার কন্যা’ বলা হতো। তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

বিগত কয়েকবছর জন্মদিনে একমাত্র ছেলে অনিকের সঙ্গে কানাডায় উদ্যাপন করেছেন। কিন্তু এবার তিনি এই সময়ে দেশেই আছেন। তাই এবারের জন্মদিনে একমাত্র সন্তান অনিককে খুব মিস করবেন ববিতা। সময়ের পালাক্রমে কতোতম বছরে পা রাখছেন? প্রশ্ন শুনেই হাসলেন ববিতা। তিনি বললেন, বয়স কতো হলো সেটা জানার আর তেমন কী দরকার! নাইবা বললাম নিজের বয়স। থাকনা অজানা আমার এই বয়সের কথা। সত্যি বলতে কী মেয়েরা কখনোই নিজের বয়সের কথা বলতে চান না। আমিও চাইনা আমার বয়সটা কেউ জানুক। তবে বুঝতে পারি দিনে দিনে বয়স বেশ ভালোই বেড়ে গিয়েছে।

জন্মদিন এলে প্রথম কোন বিষয়টি আপনার মনে পড়ে? জবাবে ববিতা বলেন, জন্মদিন এলেই আমার মন খারাপ হতে থাকে। কারণ জন্মদিন আসা মানেই এই নয় যে খুব আনন্দের বিষয়। জন্মদিন মানেই হচ্ছে জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাওয়া। জন্মদিন আসা মানেই হচ্ছে মৃত্যুর কাছাকাছি এগিয়ে যাওয়া। তাই জন্মদিন এলেই আমার এসব বিষয় আগে অনুভব হয় আমার। তারপর খুব মনে পড়ে বাবা আর মায়ের কথা। আর এখন খুব মিসকরি অনিককে। বিগত বেশ কয়েকটি বছর কানাডায় অনিকের সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করেছি। কিন্তু এই বছর সবমিলিয়ে আর কানাডায় যাওয়া হলো না। তবে অনিকের সঙ্গে সবসময়ই আমার স্কাইপিতে কথা হয়। তাই অনিক যে দেশে নেই তেমনটা খুব মনে হয়না।

সম্পাদনা:  জেড আই বাবু।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page