কাশিমপুর কারাগারে ঢুকেছে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স

গাজীপুর সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজবিডি.কম

0

kashimpur pic ambosগাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামাত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না জানানো হলেও প্রস্তুতির ধরন দেখে মনে হচ্ছে শনিবার রাতেই তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। শেষ খবর অনুযায়ী কাশিমপুর কারাগারে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করেছে। আজ শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশ করেন।

অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে প্রবেশ করেছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুনুর রশিদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, , কারাগার ও এর আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের সময় বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ কাশিমপুর কারাগারে এসে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন কারাগারে প্রবেশ করেছেন। এরআগে বিকালে জামাত নেতা মীর কাসেম আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার স্ত্রী-সন্তানসহ ৪৩ স্বজন। বিাঁল ৩টা ৪০ মিনিট তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। সাক্ষাৎ করে ৬টা ৩৫ মিনিটে বের হন।

গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। ওইদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পরে এই যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার রায় বুধবার সকালে তাকে পড়ে শোনানো হয়। বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে মীর কাসেম আলীর পরিবারের ৯ সদস্য কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন। পরে শুক্রবার মীর কাসেম কারা কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য তিনি আবেদন করবেন না। এদিন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার নাশির আহমেদ  বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়াই ছিল মীর কাসেম আলীর জীবন রক্ষার শেষ সুযোগ। তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না জানিয়ে দেয়ায় যে কোনো মুহূর্তে তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। তার লিখিতভাবে দেয়া তার সিদ্ধান্তের একটি কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page