কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে কোমর পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম। ওয়েবসাইট: www.ptbnewsbd.com

0

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর শত শত দোকানপাট, বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণ সকাল ১১টার দিকে কমে আসে। নগরীর কোথাও হাঁটু পানি আর কোথাও কোমর জমেছে। পানির মধ্যে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সকাল থেকে ঘুরে দেখা গেছে, আজ ভোর ৬টা থেকে এই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে নগরের বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, চকবাজার, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, দামপাড়া ওয়াসা, জিইজি মোড়, অক্সিজেন, বায়েজিদ, আগ্রাবাদসহ অর্ধশতাধিক পয়েন্টে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি জমে গেছে। পানি জমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। চান্দগাঁও, চকবাজার, তেলিপট্টি, বাদুরতলাসহ বিভিন্ন এলাকার বহু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড়, মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় রাস্তায় পানি ওঠার কারণে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল ১০টায় জিইসি মোড় এলাকায় কামাল উদ্দিন নামে এক পথচারী বলেন, বহদ্দারহাট যাওয়ার জন্য আগ্রাবাদের বাসা থেকে বের হয়েছেন তিনি। কিন্তু জিইসি পর্যন্ত এসে আটকে গেছেন। পানির জন্য গাড়ি চলছে না।

মহানগরীর দুই নম্বর গেট এলাকার অধিবাসী আফরোজা সুমাইয়া জানান, দুই নম্বর গেট এলাকায় এখন কোমর সমান পানি। ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর, জিইসিসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে কোমর পানি থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয় চকবাজার এলাকায়- এটা এখন পুরনো ঘটনা। চকবাজারে এখন গলা সমান পানি। মনে হয় যেন এই নগরীর কোনো অভিভাবক নেই। আমরা এখন পানিতে ভাসছি।

আগ্রাবাদ এলাকার গৃহিণী নূরজাহান সাথী জানান, আজ সকাল থেকে নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড পুরোপুরি পানিতে ডুবে রয়েছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দেখে মনে হয় চট্টগ্রাম নগরীর কোনো অভিভাবক নেই।

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, নগরীর মুরাদপুর থেকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হওয়ায় পানি নামতে পারছে না। তাই খালের আশপাশের সব নিচু এলাকায় পানি জমে থই-থই করছে। সড়ক বাসা-বাড়ির নিচতলা, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডুবে নানা দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

একই অবস্থা হয়েছে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকার। এ এলাকার চশমা খালের সংস্কার না হওয়ায় পানি জমে জলজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন।

শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ না থাকলেও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে বাসার বাইরে বের হওয়া মানুষ সড়কে নেমে দুর্ভোগে পড়েছেন।

এছাড়া নগরীর চকবাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আরিফ জানান, বৃষ্টিতে বাজারের অলি-গলি ডুবে গেছে। দোকানপাটে পানি ঢুকে বিভিন্ন পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে।
বহদ্দারহাট হক মার্কেটের ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, মার্কটের নিচতলার সবকটি দোকানে পানি থই-থই করছে। এ মার্কেটের নিচে ১০-১২টি ওষুধের দোকানে পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর জানায়, সকাল ৬টা থেকে নয়টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহম্মদ বলেন, কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সমুদ্রবন্দরের জন্য কোনো সংকেত নেই।

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যানবাহন ছিলো কম। সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা কম থাকায় ভাড়া ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ। নগরের হেমসেন লেন, চকবাজার, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যায়। বেলা ১১টায়ও বৃষ্টি অব্যাহত ছিলো।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page