ইনজামাম সেরা ব্যাটসম্যান: শোয়েব

0
ইনজামাম-উল-হক-শোয়েব আখতার
ইনজামাম-উল-হক-শোয়েব আখতার

সাবেক সতীর্থ ও অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হককে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের গতি তারকা শোয়েব আখতার। সাবেক সতীর্থ ও বোলিং পার্টনার ওয়াসিম আকরাম পরিচালিত দ্যা স্পোটর্সম্যান নামক একটি টক শো’তে শোয়েব ইনজামাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

তার যুগে বিশ্বের অন্যতম ফাস্ট বোলার হিসেবে শোয়েবকে বিবেচনা করা হতো। সাবেক এই ফাস্ট বোলার পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে ৪৪৪ উইকেট দখল করেছেন। ৪১ বছর বয়সী শোয়েব আখতার বলেছেন, ক্যারিয়ারে শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিংসহ বিশ্বের যত কিংবদন্তীয় ব্যাটসম্যানদের তিনি বোলিং করেছেন তার মধ্যে ইনজামামই সেরা, কেউই এই অধিনায়কের মত তাকে এত ভালভাবে খেলতে পারতো না।

শোয়েব বলেন, বিশ্বে অনেক খেলোয়াড়ই আছে যাদের বিপক্ষে বোলিং করাটা বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু ইনজামামকে আমি নেটে কখনই আউট করতে পারিনি। আমার মনে হয় তার থেকে আমাকে কেউ এত ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারেনি। তার ফুটওয়ার্ক বেশ দ্রুত ছিল, সে শট খেলার জন্য দারুনভাবে নিজেকে প্রস্তুত কওে ফেলতে পারতো। অনেকের থেকেই সে বল দ্রুত দেখতে পারতো। আমার কাছে সবসময়ই মনে হতো তার কাছে আশ্চর্য্য এক শক্তি আছে।

শোয়েবের সঙ্গে ৩৪টি টেস্ট খেলা ইনজামাম ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৩৫টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারের কারনেই পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। আফগানিস্তানের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব তার উপর অর্পিত হয়। আর তার সুফল ইতোমধ্যেই পাওয়া শুরু করেছে পাকিস্তান। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর স্থানটি এখন পাকিস্তানের দখলে।

মাত্র ২২ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে ইনজামামের ঝুলিতে। ইমরান খানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ী সেই দলে আরো ছিলেন ওয়াসিম আকরাম, জাভেদ মিয়াদাঁদের মতো সাবেক তারকারা। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইমরান খান যখন বিশ্বকাপের ট্রফিটি তুলে ধরেছিলেন শোয়েবের বয়স তখন মাত্র ১৬। পাকিস্তানের স্বর্ণযুগের সেই সব স্মৃতিই শোয়েবকে ক্রিকেটের প্রতি অনুপ্রানীত করেছে। তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই আমি ফাস্ট বোলার হতে চেয়েছি। আমি শুধুমাত্র জোড়ে বল করতে চাইতাম। এক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা ও আদর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামনে যদি কেউ না থাকে তবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। আমি প্রথম ওয়াসিম ও ইমরানকে দেখি, তারপর দেখি ওয়াকার ইউনুসকে। তখন থেকেই চিন্তা করেছি আমি যদি এই বোলারদের অনুসরণ করতে পারি তবে ক্যারিয়ারে কিছু একটা করে দেখাতে পারবো।

সম্পাদনা: এম জাফিউল ইসলাম।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page