আ.লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম

0

hasina-kader-asrafঅষ্টমবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ওবায়দুল কাদের বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। আজ রোববার (২৩ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন অর্থাৎ কাউন্সিল অধিবেশনে ক্ষমতাসীন দলটির দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁরা নির্বাচিত হন। এই কমিটি আগামি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হলেন।

এর আগে বিকালে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বর্তমান কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়ার পরপরই নির্বাচনী অধিবেশন শুর হয়। সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম নাম প্রস্তাব করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য মোশাররফ হোসেন। পরে কাউন্সিলরেরা তা গ্রহণ করেন। এরপর সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সমর্থন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। দুই পদে দ্বিতীয় কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ইউসূফ হোসেন হুমায়ুন তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি ঘোষণার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে নেতা-কর্মীরা উল্লাস প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি ঘোষণার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে নেতা-কর্মীরা উল্লাস প্রকাশ করেন।

সভাপতিমণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নাম ঘোষণা
এরপর সভাপতিমণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নাম ঘোষণা করা হয়। আজকের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের ৮৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ২৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে। এর আগের কমিটিতে পদাধিকার বলে তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

কমিটির ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের মধ্যে ১৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। ওবায়দুল কাদের আগের কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। সভাপতিমণ্ডলীর বাকি ১৪ জনের মধ্যে আটজন পুরোনো সদস্য। তাঁরা হলেন- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাহারা খাতুন, মোশাররফ হোসেন। নতুন ছয় সদস্য হলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযুষ ভট্টাচার্য। বাকি তিনটি পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে।

নতুন করে সভাপতিমণ্ডলীর পদে যুক্ত হয়েছেন ছয়জন। বিগত কমিটির সভাপতিমণ্ডলী থেকে বাদ পড়েছেন নূহ আলম লেনিন।

চারটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদের তিনটিতে পুরোনোরাই বহাল আছেন। তাঁরা হলেন- মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আবদুর রহমান। কোষাধ্যক্ষ পদে আগের এইচ এন আশিকুর রহমানই বহাল আছেন। আজকের সম্মেলন থেকে জানানো হয়েছে, বাকি ৬০ পদ সভাপতি শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবেন।

এর আগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সকাল ৯টা ৪০মিনিটে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন অর্থাৎ কাউন্সিল অধিবেশনের কাজ শুরু করেন শেখ হাসিনা। অধিবেশনে সভাপতির সূচনা বক্তব্য দেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। অধিবেশনে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিল উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ড. মশিউর রহমান এবং সাবেক সচিব রাশিদুল আলমের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। অধিবেশনে কয়েকজন কাউন্সিলরকে তিন মিনিট করে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। প্রতিটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন। এরপর দলের সংশোধিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। এসব সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন-প্রক্রিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশ ত্যাগ করার সময় নেতা-কর্মীরা হাত তুলে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশ ত্যাগ করার সময় নেতা-কর্মীরা হাত তুলে অভিনন্দন জানান।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ এই স্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে ২২ অক্টোবর সকাল ১০টায় শুরু হয় আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বেলা ১টা ২০ মিনিটে শেখ হাসিনা ভাষণ দেয়া শুরু করেন। শুরুতেই তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। বিদেশি অতিথিরাও বক্তব্য দেন। সভাপতির ভাষণের পর সম্মেলন মুলতবি করেন শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ৬ ও ৭ মে আওয়ামী লীগের ষোড়শ জাতীয় সম্মেলন হয়। এরপর ২০০২ সালে সপ্তদশ, ২০০৯ সালে অষ্টাদশ এবং ১৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিলো ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। গত বছর ডিসেম্বরে সেই কমিটির মেয়াদপূর্তির পর মার্চ ও জুলাইয়ে দুই দফা পিছিয়ে এবারের সম্মেলন হয়।

আওয়ামী লীগের আত্মপ্র্র্রকাশ
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্র্রকাশ ঘটে আওয়ামী লীগের। প্রায় দুই যুগ পর এই দল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে দলীয় সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন তিনি। এর পর গত ৩৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তিন মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে দলটি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হয়। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

সম্পাদনা: রাজু আহমেদ।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page