আফসানার খুনিদের গ্রেপ্তারে ছাত্র ইউনিয়নের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম

0
পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হওয়ার আগে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল।  ছবি: নাছির উদ্দিন, পিটিবিনিউজবিডি.কম।
পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হওয়ার আগে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল। ছবি: নাছির উদ্দিন, পিটিবিনিউজবিডি.কম।

মিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী আফসানা ফেরদৌস হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। উক্ত সময়ের মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমিক দেয়ে সংগঠনটি। একইসঙ্গে পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদনের দাবি জানানোও হয়। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবসংলগ্ন সচিবালয়ের পাশের রাস্তা এক সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি লাকী আক্তার এই দাবি জানান। আফসানা ঢাকা ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সমাবেশে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই হত্যকাণ্ডে জড়িত রবিনসহ সবাইকে সাতদিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদনের দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, সাত দিনের মধ্যে রবিনকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে বর্ষবরণে যৌন নিপীড়ন, তনু, মিতুর গতিধারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে যাবে এবং আমরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করতে বাধ্য হবো। আর যদি তাঁদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।

লাকী আক্তার বলেন, রোববার আফসানা হত্যার তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে আফসানা আত্মহত্যা করেছেন। আফসানাকে কি মেডিকেলে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন? তিনি আরো বলেন, তনু হত্যার প্রতিবেদন নিয়ে এরকম টালবাহনা করেছিলো, তনু হত্যার পর এই রাষ্ট্র জড়িতেদের বিচার করেনি, রাষ্ট্র বার বার ব্যর্থ হয়েছে।

আফসানাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের রবিনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। রবিনকে নাকি পুলিশ খুজে পাচ্ছে না। পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় সার্চ করুন, তাঁকে (রবিন) খুঁজে পাবেন।

ন্যায়বিচারের দাবিতে যারা আন্দোলন সংগ্রাম করছে, পুলিশ তাঁদের লাঠিচার্জ করছে বলে অভিযোগ করেন লাকী।

কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, আমরা আমাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করলাম, ছাত্র ইউনিয়ন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাই ছাত্র আন্দোলনের গতিধারায় পরবর্তীতে আরো বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আফসানাসহ সকল নারী ধর্ষণকারী ও খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে চায়।

বক্তারা বলেন, দেশে এতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তবুও শাসকগোষ্ঠীর সদ্বিচ্ছার অভাবে অধিকাংশ সময়ই ধর্ষক ও হত্যাকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। সিসি টিভি ফুটেজে রবিনকে হাসপাতালে লাশ রেখে যেতে দেখা গেলেও কেনো তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। রবিনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা গেছে। আদতে তিনি শুধু ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকই নন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার কর্মী ছিলেন।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি মিছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিকে যাত্রা করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর যায়। সেখানের পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙ্গে প্রেসক্লাবের দিকে যায়। প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে আবারো পুলিশি বাধার মুখে পড়েন নেতা-কর্মীরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়। এ সময় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কনক হায়াত, ঢাকা মহানগর সংসদের খিলগাঁও শাখার স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং ঢা.বি. সংসদের জগন্নাথ হল শাখার প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রাজীব রাজকুমার। তারা তিনজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরে প্রেসক্লাব ও সচিবালয়ের মাঝখানের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন তারা। মিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী আফসানাকে অচেতন অবস্থায় গত শনিবার রাতে মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতালে ফেলে যায় দুই তরুণ। তার আগেই আফসানার মৃত‌্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

আফসানাকে শ্বাসরোধে হত‌্যা করা হয়েছে দাবি করে তাঁর কথিত বন্ধু তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিনকে শুরু থেকে দায়ী করে আসছে পরিবার। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরও সন্দেহভাজন ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রবিনকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

কেন্দ্রীয় সভাপতি লাকী আক্তার, সহ-সভাপতি লিটন নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সেন গুপ্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অনিক রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদা খাঁ’র সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল তিন দফা দাবির একটি স্মারকলিপি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর কার্যালয়ের একজন সিনিয়র সচিব স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। তাঁদের দাবিগুলো হচ্ছে- আফসানার পুনরায় ময়না তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনসহ সবাইকে গ্রেপ্তার এবং সোহাগী জাহান তনু, মাহমুদা খানম মিতুর হত্যাকারীদের প্রকৃত স্বরূপ উম্মোচন করে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা।

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশ করলে সচিবালয়ের সামনে সমাবেশ চলতে থাকে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি.এম রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক জহর লাল রায়, সহ-সভাপতি দীপক শীল, সহ-সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেতু, কক্সবাজার জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অন্তিক চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

সম্পাদনা : অরুন দাস।

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPrint this page